ব্যবহারকারী যে তথ্য কম্পিউটারে ঢোকাতে চান, কম্পিউটার তা গ্রহণ করে। তার পর ব্যবহারকারীর নির্দেশমতো ঐ তথ্যগুলিকে ব্যবহার করে কম্পিউটার তার করণীয় কাজ সেরে ফেলে। যে সব যন্ত্রাংশের মাধ্যমে এক জন ব্যবহারকারী কম্পিউটারে তথ্য ঢোকাতে পারেন ও কম্পিউটারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন, সেগুলিকে বলে ইনপুট ডিভাইস। যেমন, কি বোর্ড, মাউস, অপটিকাল ক্যারেকটার রিডার (ও সি আর), ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেকটার রিডার (এম আই সি আর) ইত্যাদি। এখানে মূল দুটি ইনপুট ডিভাইস সম্পর্কে আলোচনা করা হল। কি বোর্ড এটি এমন একটি ইনপুট ডিভাইস, যার সাহায্যে কম্পিউটারের মধ্যে সরাসরি কোনও তথ্য ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। টাইপরাইটার যন্ত্রটির সাহায্যে যেমন টাইপ করা যায়, বিভিন্ন নির্দেশও পাঠানো যায়। কি বোর্ডে অনেকগুলি বাটন বা বোতাম থাকে, এগুলির উপরে সাধারণত ইংরাজি বর্ণমালা মুদ্রিত থাকে এবং তার বিন্যাস টাইপরাইটারেরই অনুরূপ। এটি সর্বাধিক ব্যবহৃত ইনপুট ডিভাইস। এর কিছু বৈশিষ্ট্য নীচে উল্লেখ করা হল। এর মাধ্যমে সরাসরি তথ্যকে কম্পিউটারে ঢোকানো যায়। মূল কম্পিউটার থেকে দূরে কি বোর্ড রেখে কাজ করা সম্ভব। কারণ, মূল কম্পিউটারের সঙ্গে তারের মাধ্যম যুক্ত থাকে কি বোর্ড। এটি ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে অর্থাৎ ব্যবহারকারী যে ভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করতে চান, কি বোর্ড তা কম্পিউটারকে জানিয়ে দেয়। কি বোর্ডে এন্টার লেখা একটি বাটন থাকে। প্রয়োজনীয় নির্দেশ কি বোর্ডের মাধ্যমে টাইপ করে ঐ বাটনটি টিপলেই তা পালন করতে শুরু করে কম্পিউটার। সুতরাং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মাধ্যম হলো কি বোর্ড। এটির ব্যবহারিক ব্যয়ও কম। মাউস এটি একটি ইনপুট ডিভাইস হলেও পয়েন্টার ডিভাইসও বলা হয়। কম্পিউটার চালু করলে তার পর্দায় তীর চিহ্নের চেহারার একটি পয়েন্টার বা নির্দেশকে দেখা যায়, যাকে বলা হয় মাউস পয়েন্টার। মাউসের নাড়াচাড়ার মাধ্যমে এটির অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব। সাধারণত মূল কম্পিউটারের পাশে একটি প্যাডের উপর মাউসটি রাখা থাকে। এটিও কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত থাকে তারের মাধ্যমে। যে হেতু হাতে ধরে মাউসটিকে ব্যবহার করতে হয়, তাই এটির আকৃতি হাতে ধরার উপযোগী করা হয়ে থাকে। প্রত্যেক মাউসের উপরের তলে সাধারণত দু’টি বোতাম থাকে। বাঁ দিকে একটি, ডান দিকে একটি। বাঁ দিকের বোতামকে এক বার টিপলে তাকে বলা হয় ক্লিক করা। ডান দিকের বোতামটি এক বার টিপলে তাকে বলে রাইট ক্লিক। বাঁ দিকের বোতামটি ক্লিক করে আমরা কম্পিউটারের পর্দায় দৃশ্যমান কোনও কিছুকে বেছে নিতে পারি। ডান ডিকের বোতামটি এক বার ক্লিক করলে সাধারণত একটি মেনু বা তালিকা পাওয়া যায়। সেই তালিকায় নানা রকম কাজ সম্পাদনের সুযোগের নাম থাকে। যেমন, কাট, কপি, পেস্ট, সেন্ড টু, প্রপার্টিজ ইত্যাদি। সেখান থেকে আমরা প্রয়োজনমতো কাজ সম্পাদন করতে পারি মাউসের সাহায্যেই। মাউসের বাঁ দিকের বোতামটি দ্রুত পর পর দু’ বার ক্লিক করেও কিছু কিছু কাজ সম্পাদন করা যায়। এই প্রক্রিয়াটিকে কম্পিউটারের পরিভাষায় বলে ডবল ক্লিক। সাধারণত কোনও কম্পিউটারে বিভিন্ন তথ্য সংবলিত কোনও ফোল্ডার খোলার জন্য এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। উইন্ডোজ 7 শীর্ষক অধ্যায়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ থাকছে। মাউসের আরও একটি ব্যবহার হলো, এর সাহায্যে কম্পিউটারের পর্দায় দৃশ্যমান কোনও কিছুকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যায়। এই প্রক্রিয়াকে কম্পিউটারের পরিভাষায় বলা হয় ড্র্যাগিং। যেটিকে কম্পিউটারের ভাষায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, সেটির উপর মাউস পয়েন্টারটিকে প্রথমে নিয়ে যেতে হবে। এ বার মাউসের বাঁ দিকের বোতামে এক বার ক্লিক করে বোতামটি চেপে রেখে মাউসটিকে নাড়াচাড়ার মাধ্যমে পয়েন্টারটিকে পছন্দের জায়গায় নিয়ে গিয়ে বোতামটিকে ছাড়তে হবে। তা হলেই নতুন জায়গা ঐ বস্তুটি স্থানান্তরিত হবে। স্ক্যানার স্ক্যানার ইনপুট ডিভাইস হিসাবে পাঠ্যের ছবি এবং পৃষ্ঠাগুলি ব্যবহার করে। এটি ছবি বা কোনও নথি স্ক্যান করে। স্ক্যান করা ছবি বা নথিটি তখন ডিজিটাল ফর্ম্যাট বা ফাইলে রূপান্তরিত হয় এবং আউটপুট হিসাবে স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয়। জয়স্টিক একটি জয়স্টিক হ'ল মাউসের মতো পয়েন্টিং ইনপুট ডিভাইস। এটি একটি গোলকের ভিত্তি সহ একটি কাঠি দিয়ে তৈরি। বেসটি একটি সকেটে লাগানো হয় যার জন্য জয়স্টিক-টি মুক্ত ভাবে চলাফেরা করতে পারে। স্টিকের চলন স্ক্রিনে কার্সার বা পয়েন্টার নিয়ন্ত্রণ করে। মাইক্রোফোন মাইক্রোফোন একটি কম্পিউটার ইনপুট ডিভাইস যা শব্দ ইনপুট করতে ব্যবহৃত হয়। এটি শব্দের কম্পনগুলি গ্রহণ করে এবং এগুলিকে অডিও সিগন্যালে রূপান্তর করে বা একটি রেকর্ডিং মাধ্যমের কাছে প্রেরণ করে। অডিও সংকেতগুলি ডিজিটাল ডেটাতে রূপান্তরিত হয় এবং কম্পিউটারে সঞ্চিত হয়। মাইক্রোফোন ব্যবহারকারীকে অন্যের সাথে টেলিযোগযোগ করতে সক্ষম করে। এটি উপস্থাপনা এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের জন্য ওয়েবক্যামের সাথে শব্দ যুক্ত করতেও ব্যবহৃত হয়। ওয়েবক্যাম যে কোনও ক্যামেরা কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত থাকে তাকে ওয়েবক্যাম বলে। কম্পিউটারে প্রদত্ত অন্তর্নির্মিত ক্যামেরাটিকে একটি ওয়েবক্যাম হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি একটি ইনপুট ডিভাইস কারণ এটি ছবি তুলতে পারে এবং প্রয়োজনে ভিডিও রেকর্ড করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ছবি এবং ভিডিওগুলি কম্পিউটারের মেমোরিতে সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে স্ক্রিনে প্রদর্শিত হতে পারে। যদিও এটি প্রায় ডিজিটাল ক্যামেরার মতো কাজ করে, এটি একটি ডিজিটাল ক্যামেরার থেকে পৃথক, কারণ এটি কমপ্যাক্ট ডিজিটাল ফটো তোলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যা ওয়েবপৃষ্ঠায় সহজেই আপলোড করা যায় এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্যের সাথে ভাগ করা যায়। সূত্র : কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, আই আই আই এম