সেমিনার, আলোচনা চক্র, মিটিং বা ক্লাসে পড়ানোর সময় প্রজেক্টারের সাহায্যে ছবি দিয়ে আলোচ্য বিষয়টি উপস্থাপনা করার জন্য আমরা স্লাইড ব্যবহার করি। এখন এই কাজটি কম্পিউটারের সাহায্যে হয়। উপস্থাপনা বা স্লাইড নির্মাণের ক্ষেত্রে পাওয়ার পয়েন্ট নামক একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হয়। পাওয়ার পয়েন্টকে উপস্থাপনা তৈরির অ্যাপ্লিকেশন বা প্রেজেন্টেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন বলা হয়। এটি মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজের একটি অঙ্গ। বাজারে যে সব আধুনিক প্রেজেন্টেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন চালু রয়েছে পাওয়ার পয়েন্ট হল প্রযুক্তির দিক থেকে তাদের মধ্যে অন্যতম এবং সব চেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যার মেনু থেকে মাউস ক্লিক করে চালিয়ে বিষয়ের দৃশ্যগত উপস্থাপনা করা যায়। মাইক্রোসফটের এম এস অফিস অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত পাওয়ার পয়েন্ট বহুল ব্যবহৃত। পাওয়ার পয়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল : ক) পাওয়ার পয়েন্টে ১৬০টি টেমপ্লেট বা ছাঁচ রয়েছে। অর্থাৎ ১৬০টি পাতা বা প্লেটের আকৃতি রয়েছে। যেটির সাহায্যে দৃশ্যগত উপস্থাপনা বা স্লাইড নির্মাণ করা হয়। খ) পাওয়ার পয়েন্টে একই সঙ্গে লেখা, সারণি, নকশা ও ছবির ব্যবহার করা যায়। গ) পাওয়ার পয়েন্টে বহু রঙের প্যালেট রয়েছে। ফলে দৃশ্যগত উপস্থাপনা সুন্দর করার জন্য প্রয়োজনমতো রঙের ব্যবহার করা যায়। ঘ) পাওয়ার পয়েন্টে দৃশ্যগত উপস্থাপনা অনেকটা স্লাইড দেখানোর মতো। কম্পিউটারের পুরো পর্দা জুড়ে ছবিটা দেখা যায়। কম্পিউটারের পর্দা স্লাইডের মতো হয়ে যায়। এ ছাড়াও প্রজেক্টারের সাহায্যে এ ধরনের প্রেজেন্টেশন বড় পর্দায় বা দেওয়ালে ফেলা যায়, যাতে বহু লোক তা এক সঙ্গে দেখতে পারে। ঙ) পাওয়ার পয়েন্টে তৈরি উপস্থাপনার পুরোটা কম্পিউটারের প্রিন্টারের সাহায্যে ছাপিয়েও নেওয়া যায়। সূত্র : কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, আই আই আই এম