এই পেশায় আসতে গেলে প্রফেশনাল সার্টিফিকেটের সঙ্গে চাই বাযোলজিক্যাল সাযেন্সে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। সেই সঙ্গে যদি থাকে একটি হসপিটাল হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রি, তা হলে তো কথাই নেই। তবে কাগজেকলমে ডিগ্রি বাদ দিলেও যে যোগ্যতা থাকতেই হবে, তা হল – রোগীর সমস্যাটা বোঝার ক্ষমতা। একই সঙ্গে সাবলীল হতে হবে কম্পিউটারে। ভালো রকমের চেনাশোনা থাকা দরকার ল্যাব ইকুইপমেন্টের সঙ্গে। নজর হতে হবে তীক্ষ্ণ, সামান্যতম খুঁটিনাটিও যাতে চোখ এড়িয়ে না যায়। শেখার জন্য ট্রেনিং কোর্স রয়েছে প্রচুর। করা যেতে পারে এক বছরের ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স। তবে সে ক্ষেত্রেও কমপক্ষে থাকতে হবে বিজ্ঞানে উচ্চমাধ্যমিক মান বা বিএসসি। রয়েছে তিন বছরের ডিগ্রি কোর্স। বিএসসি-র পর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করা যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাজ করতে গেলে এ সব ছাড়াও একটা অতিরিক্ত লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হয়। এক সঙ্গে অনেকগুলি যন্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হয় চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত এক জন প্রযুক্তিবিদকে। নমুনা পরীক্ষা করে সেটা বিশ্লেষণ করার পর ফলাফলটা তিনি জানিয়ে দেন ডাক্তারকে। এ ক্ষেত্রে কাজে লাগে অভিজ্ঞতা। পরীক্ষার ফলাফল যতটা সম্ভব যাতে ঠিক হয়, তার দিকে যথেষ্ট নজর রাখতে হয়। অনেক সময় ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানদের সুপারভাইজ করাও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কাজের মধ্যে পড়ে। ছোট ছোট ল্যাবরেটরিতে নানা রকম পরীক্ষানিরীক্ষা হয়। বড় ল্যাবরেটরিতে সাধারণত বিশেষ ধরনের পরীক্ষা হয়। তাই সে সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদরা হন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। যেমন- মাইক্রোবায়োলজি টেকনোলজিস্টরা পরীক্ষা চালান ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য মাইক্রো অর্গ্যানিজমের খোঁজে। আবার ব্লাড ব্যাঙ্কের কাজ হল রক্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন পরীক্ষা। মলিকিউলার বায়োলজিস্টরা কাজ করেন কোষের কমপ্লেক্স প্রোটিন আর নিউক্লিক অ্যাসিড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। সংস্থা ভেদে কাজ করার নিয়ম ও পদ্ধতি পাল্টে যায়। নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ ও জীবাণু নিয়ে কাজ করতে হয় বলে কাজটা বেশ ঝুঁকির। একেক জায়গায় কাজের ধরন ও সময় আলাদা। বড় জায়গায় শিফটিং ডিউটি থাকে, ছোট জায়গায় রোটেটিং শিফট থাকে। রাত জেগে কাজের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। বছর দশেক কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে এক জন প্রযুক্তিবিদ পেতে পারেন সুপারভাইজারের দায়িত্ব। পেতে পারেন ম্যানেজারের পোস্টও। এক জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের মাইনে নির্ভর করে তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ওপর। তা ছাড়া প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বেতন কাঠামো থাকেই। মোটামুটি নামী সংস্থায় শুরুর বেতন ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যেই থাকে। সূত্র: যোজনা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫