সি রজার্স দু’রকমের শিক্ষার কথা বলেছেন : বুদ্ধিগত এবং অভিজ্ঞতাগত (তাত্পর্যপূর্ণ)। প্রথমটা পুথিগত জ্ঞান সম্পর্কিত, যেমন কথা বলতে শেখা বা নামতা শেখা; দ্বিতীয়টা ব্যবহারিক, যেমন গাড়ি মেরামত করার জন্য ইঞ্জিন সম্পর্কে শেখা । এই তফাতের মূলমন্ত্র হচ্ছে অভিজ্ঞতার থেকে শিক্ষা তত্ত্বটি শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও চাহিদার দিকে বেশি নজর দেয়। রজার্স অভিজ্ঞতা দ্বারা শিক্ষার গুণগুলি এই ভাবে তালিকাবদ্ধ করেন : ব্যাক্তিগত ভাবে জড়ানো, নিজস্ব তাগিদ, শিক্ষার্থীর দ্বারা মূল্যায়নকৃত, এবং শিক্ষার্থীর উপর প্রভাব। রজার্সের মতে অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষা ব্যক্তিগত পরিবর্তন এবং উন্নতির সমান। রজার্স মনে করেন যে প্রত্যেক মানুষের শেখার একটা স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে। শিক্ষকের কাজ হচ্ছে সেটাকে সহজ করে দেওয়া। যার মধ্যে পড়ে : ১। শেখার একটা বাস্তব পরিবেশ তৈরি করা। ২। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা। ৩। শেখার উৎসসমূহের বন্দোবস্ত করা এবং পাওয়ার ব্যবস্থা করা। ৪। শেখার বুদ্ধিমত্তাগত দিক এবং আবেগজনিত দিকের মধ্যে সাম্যতা আনা। ৫। শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুভব ও চিন্তা ভাগ করা কিন্তু তার উপর আধিপত্য না করা। রজারের মতে শেখাটা তখনই সহজ করা হয় যখন: (১) ছাত্র শেখার প্রক্রিয়াতে সম্পূর্ণ ভাবে অংশ গ্রহণ করে এবং তার প্রকৃতি ও গতির উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে। (২) যখন সেটা মুখ্য ভাবে ব্যবহারিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত গবেষণা সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে সোজাসুজি মুখোমুখি হয়। (৩) নিজেকে যাচাই করাটা অগ্রগতি বা সাফল্য নির্ণয়ের সবচেয়ে মুখ্য রাস্তা। রজার্স শিখতে শেখা এবং পরিবর্তনের প্রতি খোলা মন হওয়ার উপরও জোর দেন। উৎস : পোর্টাল কন্টেন্ট দল