দুর্গাপুজোর সময় প্যান্ডেলে রাখা হয় দুর্গার প্রতিমূর্তি। ওটা আসল দুর্গা নয়। আসল দুর্গা চোখে দেখা যায় না, তা-ও অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করার বিষয়। আসল দুর্গা বিমূর্ত। প্যান্ডেলে তার প্রতীক রেখে পূজা করা হয়। মানে বিমূর্ত দেবীকে প্রতীকের মাধ্যমে মূর্ত করে স্মরণ করা হয়। পুজো হয়ে গেলে সেই প্রতীকটা বিসর্জন দেওয়া হয়। মানে প্রতীকটা নষ্ট করে দেওয়া হয়। আসল হলে আর বিসর্জন দেওয়া হত না। রেখে দেওয়া হত ঘরে ঘরে। গণিতের ক্ষেত্রেও তাই। গণনার প্রয়োজনে, হিসাবের প্রয়োজনে, অন্যের কাছে গণিতের কোনও বিষয় উপস্থাপনের প্রয়োজনে যে সব চিহ্ন, চিত্র আঁকা হয় তা সবই প্রতীক; সে রেখা হোক বা সংখ্যাই হোক। ত্রিভুজের কোনও বিষয় বোঝানোর জন্য যে ত্রিভুজ আঁকা হয় বোর্ডে, খাতায় কিংবা বইয়ের পাতায় – ও সবই সেই দুর্গার প্রতীকের মত প্রতীক। আসল ত্রিভুজ নয়। কারণ, আসল রেখাংশের দৈর্ঘ্য আছে, প্রস্থ ও উচ্চতা নেই। ত্রিভুজ আকাঁর জন্য যে রেখাংশ আঁকা হয় তার দৈর্ঘ, প্রস্থ ও উচ্চতা সবই আছে। চক বা কালি দিয়ে যে রেখাংশ আঁকা হয়, সামান্য হলেও তার প্রস্থ আছে। বোর্ডের ডাস্ট পড়ে কিংবা কাগজে কালি পড়ে সামান্য হলেও কিছুটা উঁচু হয়। সুতরাং এ রেখাংশের উচ্চতাও আছে। প্রতীকের মাধ্যমে যেমন দুর্গাকে পুজো করে, দেবীকে স্মরণ করে, প্রতীক বিসর্জন দেওয়া হয়; অর্থাৎ প্রতীক নষ্ট করে দেওয়া হয়, ঠিক তেমনই বোর্ডে প্রতীকের মাধ্যমে গণিতের কোনও বিষয় স্মরণ করে ডাস্টার দিয়ে মুছে দেওয়া হয়, অর্থাৎ প্রতীক নষ্ট করে দেওয়া হয়। আসল নয়, প্রতীক কেন ? দেবীর ক্ষেত্রে যেমন দেবীকে প্রতীকের মাধ্যমে স্মরণ করতে সহজ হয়, তেমনই গণিতের ক্ষেত্রে প্রতীকের মাধ্যমে বিষয় বুঝতে এবং অন্যকে বোঝাতে, চিন্তন বিষয় ধরে রাখতে সহজ হয়। বিমূর্ত এই ধারণাকে বিমূর্ত রেখে স্মরণ করা কঠিন। মসজিদে কিংবা ব্রাহ্মসমাজের মন্দিরে দেবতার কোনও প্রতীক নেই, সেখানে বিমূর্ত দেবতাকে বিমূর্ত রেখেই স্মরণ করা হয়। সূত্র : আধুনিক গণিত অন্বেষা, গণিতভীতি সংখ্যা, ২০১২।