শিশু জন্মের পর থেকে কমবেশি ছোটবড় জন্মগত ধারণার মধ্যে দিয়ে নিজের অজান্তে গণিতচর্চা করে আসছে। বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদেরই অসাবধানতায় সেই চর্চা কারও কারও কেমন যেন ফিকে হয়ে আসে। সেই অসাবধানতা সম্পর্কে বিখ্যাত ছড়াকার ভবানীপ্রসাদ মজুমদার তাঁর একটি ছড়ায় লিখলেন— ‘‘ইস্কুলে আর যাব না মা, বললে কেঁদেই জয়। ইস্কুলেতে গেলেই মাথা খারাপ হবার ভয়।’’ স্কুলের এক দিদিমণির বিভ্রান্তিকর এক গণিত প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে শিশুর এই উক্তি। অন্য কোনও বিষয়ে নয়, গণিতে কেন দেশ জুড়ে এত অনাগ্রহ, ভীতি তার চুলচেরা বিশ্লেষণ হওয়া দরকার। শিক্ষার্থীদের গণিতচর্চায় মাপকাঠি হিসাবে যদি ধরে নেওয়া হয় আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতা ‘অঙ্ক অলিম্পিক’, তবে সেখানে দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশ সামনের সারিতে নেই। প্রায় প্রতি বছর অঙ্ক অলিম্পিকে চিন, জাপান, আমেরিকা থেকে আগত প্রতিযোগীর ছয় জনের মধ্য ছয় জনই পাচ্ছে স্বর্ণপদক, সেখানে ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১০ বছর ভারতের ঘরে কোনও স্বর্ণপদক আসেনি। আর মাপকাঠি হিসাবে যদি ধরা হয় গণিতজগতের সব চেয়ে বড় পুরস্কার ‘ফিল্ডস মেডেল’। না, এ পুরস্কার আজও জোটেনি কোনও ভারতীয়র কপালে। গণিত কেবল, কিছু সমস্যার সমাধান নয়। অন্য বিষয় থেকে এ বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। বিষয়টা বিমূর্ত (Abstract)। এর সত্যতাও সেই বিমূর্ততায়। সেটা কেমন ? উদাহরণ দেওয়া যাক। বাস্তবে গণিতের যে কর্মকাণ্ড করা হয় তা সম্পূর্ণরূপে সত্য নয়। প্রায় সত্যকে সত্য বলে মেনে নেওয়া হয়। প্রথমে গণিতের বিমূর্ততা নিয়ে আলোচনা করা দরকার। গণিতচিন্তনের প্রয়োজনে, অন্যের কাছে তা উপস্থাপনের প্রয়োজনে, হিসাবের প্রয়োজনে আমরা যে চিহ্ন, চিত্র ব্যবহার করি তা আসল নয়, নকল। এগুলো প্রতীক মাত্র। আর আসল ? আসল চোখে দেখা যায় না। অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। তা মূর্ত (concrete) নয়, বিমূর্ত (abstract)। সূত্র : আধুনিক গণিত অন্বেষা, গণিতভীতি সংখ্যা, ২০১২।