যে কোনও নতুন ধারণার জন্ম হয় পূর্বজ্ঞান থেকে। নতুন বিষয়ে ধারণা দিতে গেলেই শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পূর্বজ্ঞান আছে কিনা যাচাই করে নিতে হয়। গণিতে ধারণার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও তাই। যদি শিক্ষার্থীদের নীচের প্রশ্নদু’টো করা হয়— (ক) ৪ ও ৬-এর গ.সা.গু কত ? (খ) ৫ ও ৭-এর গ.সা.গু কত ? তবে উত্তর আসবে, যথাক্রমে ২ ও ১। এ বার যদি প্রশ্ন করা হয়, প্রথম প্রশ্নের উত্তর ২ কেন ? উত্তর আসবে, ৪-এর গুণনীয়কগুলি হল ১, ২, ৪ এবং ৬-এর গুণনীয়কগুলি হল ১, ২, ৩, ৬। এদের সাধারণ গুণনীয়ক ১, ২। ১ আর ২-এর মধ্যে ২ গরিষ্ঠ। সুতরাং ৪ ও ৬-এর গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক বা গ.সা.গু ২। এ বার যদি প্রশ্ন করা হয়— দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর ১ কেন ? নিশ্চয় গ.সা.গু.’র সংজ্ঞা থেকে আগের উত্তরের মতো একই রকম ভাবে উত্তর আসবে, ৫-এর গুণনীয়কগুলি হল ১, ৫। ৭-এর গুণনীয়কগুলি হল ১, ৭। এদের সাধারণ গুণনীয়ক ১। এখন ১–কে কি গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক বলা যাবে ? ১ কার থেকে বড় ? এখানে সাধারণ গুণনীয়ক তো একটাই সংখ্যা। সুতরাং এখানে ৫ ও ৭–এর গ.সা.গু ১ কখনওই বলা যাবে না। তাই এই ১ কে ৫ ও ৭–এর সা.গু বলা যেতে পারে, গ.সা.গু নয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে আজও আমরা ৫ ও ৭–এর গ.সা.গু ১ বলে আসছি। এই যুক্তিহীন চর্চা চলছে গণিতে ! সঠিক পদ্ধতিতে গণিতচর্চা যে হচ্ছে না, এটা তার একটা উদাহরণ। না হলে এই ভ্রান্তি দূর হত অনেক আগেই। স্মৃতিনির্ভর এই গণিতচর্চা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এখন আমাদের সামনে দু’টো পথ খোলা। হয়, আমরা সংজ্ঞা হিসেবে ধরে নেব, দু’টি সংখ্যার সাধারণ গুণনীয়ক একমাত্র ১ হলে, সেই ১–কে তাদের গ.সা.গু. বলব। নতুবা, এ রূপ দু’টি সংখ্যার গ.সা.গু. নেই বলব। যদি দ্বিতীয়টা মেনে নেওয়া হয়, তবে সে ক্ষেত্রে নীচের সংজ্ঞাটি বাতিল করতে হবে— ‘দু’টি সংখ্যার গ.সা.গু. ১ হলে তাদেরকে পরস্পর মৌলিক সংখ্যা বলে’। বইয়ে বইয়ে শিক্ষকে শিক্ষকে সহমতের অভাবে বিভ্রান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। সূত্র : আধুনিক গণিত অন্বেষা, গণিতভীতি সংখ্যা, ২০১২।