টেকনোলজি, গ্যাজেট, ইন্টারনেট -- এ সব কিছুই ব্যবহার করে কিন্তু ভালোমন্দ দু’ রকম কাজই করা যায়। ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে তুমি হয়তো ৫টা উইন্ডো খুলে রেখেছো। একটায় আইআইটি কানপুরের ওয়েবসাইট, একটায় নাসার লেটেস্ট প্রোজেক্ট, একটায় ফেসবুক, আর দু’টোতে হয়তো ইউটিউব আর ফ্লিপকার্ট। খেয়াল করে দেখো, কোন কোন উইন্ডো তোমার সত্যি সত্যি কাজের, কোনটা তেমন কাজের নয়, কোনওটা একেবারেই অকাজের। গুরুত্ব বুঝে তুমি নিজেই প্রায়রিটাইজ করে নাও, কোন (বা কোন কোন) উইন্ডো তুমি বন্ধ করে দেবে। হাঁটতে-চলতে, সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মোবাইল বা অন্য কোনও গ্যাজেট ব্যবহার করাটা যে বেশ ঝুঁকির কাজ সে তোমরাও জানো। তা ছাড়াও ভেবে দেখো, যখন বন্ধুদের সঙ্গে ক্যান্টিনে বা পরিবারের সকলের সঙ্গে ডাইনিং টেবিলে বসে আছ, তখন কি ফেসবুক বা হোয়াট্সঅ্যাপ করাটা ঠিক ? হয়তো বলবে, আমি তো খাওয়া আর ফেসবুক দু’টোই সমান মন দিয়ে করছি। মাল্টি টাস্কিং করতে জানলেই কিন্তু হল না। এটাও বুঝতে হবে, তোমার মাল্টি টাস্কিং অন্যের মনখারাপ বা সম্মানহানির কারণ যেন না হয়। কয়েকটা কাজের সময় নিজেকেই বল, এখন নো মোবাইল, নো টুইটার, নো সোশ্যাল মিডিয়া। সেই কাজগুলো হতে পারে তোমার কলেজের প্রজেক্ট বা টার্ম পেপার তৈরি বা বাইক চালানো। মোট কথা জমাটি একটা ফোকাস দরকার, এমন যে কোনও কিছুর ক্ষেত্রেই যাবতীয় গ্যাজেট আর মিডিয়ার জন্য নিজের সামনেই ঝোলাও অদৃশ্য ‘নো এন্ট্রি’ সাইনবোর্ড। এই খুব জরুরি কাজটি শুরু করো, তোমার ঘুমের সময়টা দিয়ে। রাতে বিছানায় শুয়ে ‘ভিমিও’ দেখার আরামের আকর্ষণে নিজের রাতের ঘুমটা মাটি করো না। ‘আমি দারুণ ইংরাজি বলতে জানি’ আর ‘আমি তো ফেসবুকে ফাটিয়ে লিখি’, তাতেই সব হল না। বন্ধুর সঙ্গে যে ভাবে, ভাষায় কথা বল, মা-র সঙ্গে সেই একই ভাষায় কথা বল কি ? একই জিনিস মাথায় রাখো লেখার ক্ষেত্রেও, হোক তা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালিখি। ‘টেকনোলজি এটিকেট’ একটা মস্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কে ‘কী’ লিখছেন সেটা দেখো (শুধু ‘লাইক’ আর আলপটকা ‘কমেন্ট’ই যথেষ্ট নয়। আরও দেখো কে ‘কী ভাবে’ সেটা লিখছেন, কী উপায়ে একটা বিষয়ে বা ঘটনায় নিজের মতামতটা উপস্থাপন করছেন। অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া কোনও সূত্র বা তথ্য (নামধাম, সালতারিখ যাই হোক না কেন) যাচাই করে দেখো। শুধু ‘অনলাইন’ই নয়, ’অফলাইন’ও হতে শেখো। ইন্টারনেট-এর বাইরেও দারুণ জমজমাট একটা দুনিয়া আছে, সেখানেও দিব্যি ক্রিকেট-ফুটবল-দাবা খেলা যায়, নিজের দু’হাতের মধ্যে ধরে একটা প্রিয় বই পড়া যায়। ‘যন্ত্র না’ মানেই যে ‘যন্ত্রণা’, তোমার এই বদ্ধমূল ধারণা দেখবে অচিরেই পাল্টে গিয়েছে। পারমিতা ভট্টাচার্য, ডিরেক্টর, পিপ্ল স্কিলিং সলিউশন সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, প্রস্তুতি, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫