গরুমারা ন্যাশনাল পার্ক পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। হিমালয়ের পাদদেশে তরাই অঞ্চলে অবস্থিত এই উদ্যান একটি মাঝারি আয়তনের তৃণভূমি ও অরণ্য। জলদাপাড়ার মতো গরুমারাও ভারতীয় গন্ডারের আবাসভূমি হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালে ভারতের পরিবেশ ও অরণ্য মন্ত্রক এই উদ্যানকে ভারতের সংরক্ষিত এলাকাগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা দেয়। ইতিহাস ১৮৯৫ সাল থেকেই গরুমারা একটি সংরক্ষিত অরণ্য ভূমি। এখানে ভারতীয় গন্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধি নজরে আসায় ১৯৪৯ সালে গরুমারাকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য বলে মর্যাদা দেওয়ার কথা বলা হলেও ১৯৭৬-এ অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৪ সালের ৩১ জানুয়ারি একে ভারতের জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শুরুতে গরুমারার আয়তন ছিল মাত্র ৭ বর্গ কিলোমিটার। আশেপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়তে পড়তে বর্তমানে এর আয়তন প্রায় ৮০ বর্গ কিলোমিটার। স্বাধীনতার আগেই ১৯৪২ সালেই গরুমারাকে সংরক্ষিত শিকারভূমি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। সে সময় লাটাগুড়িতে বাঘের ডাক শোনা যেত। এক দিন হাট থেকে ফেরার পথে রাত হয়ে যেতে জঙ্গলের মধ্যেই রাতের ডেরা বাঁধে হাটুরেরা। আগুন-পাহারা, সবই ছিল। তবু তারই মধ্যে গরুর গাড়ির বলদ উঠিয়ে নিয়ে গেল বাঘ। সেই থেকে জঙ্গলের নাম হয়ে গেল গরুমারা। লাটাগুড়ির আগেই বাঁ হাতি পথ গেছে গরুমারার গভীরে। সেখানেই বনবাংলো আর নজরমিনার রাইনো পয়েন্ট। মূল সড়ক থেকে ৫ কিলোমিটার কাঁচা পথ কিছুটা গেছে বড়দিঘি চাবাগানের মধ্য দিয়ে। চাবাগান শেষ হলে ঘন বনের মধ্য দিয়ে পথ। এই পথে যখন তখন হরিণ, গাউর, এমনকী গণ্ডারও দেখা যেতে পারে। এ ছাড়াও এ জঙ্গলে আছে হাতি, সম্বর, লেপার্ড, শুয়োর, ভালুক ইত্যাদি। নানা প্রজাতির পাখি আর অসংখ্য ময়ূর আলো করে রাখে গরুমারার গাছ-গাছালি। বনবাংলো থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে যাত্রাপ্রসাদ নজরমিনার। ঘন জঙ্গলের মাঝে। অসম থেকে আনা বিখ্যাত দাঁতাল যাত্রাপ্রসাদ ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত বন দফতরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করেছিল। তারই স্মরণে এই নজরমিনার, যদিও দু’ দু’বার এই নজরমিনার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে হাতিরাই। লাটাগুড়িতে থেকে গরুমারা দেখতে হয়। বনে প্রবেশের জন্য অনুমতি নিতে হয় বন দফতরের লাটাগুড়ি রেঞ্জ অফিস থেকে।