২৪ ডিসেম্বর, ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ। ১৩ পৌষ, ১২৯৩ বঙ্গাব্দ। সন্ধে পেরিয়ে গেছে অনেক ক্ষণ। বেশ রাত। তারাভরা আকাশ। সামনে জ্বলছে ধুনি। ধ্যানে নিমগ্ন ন’টি যুবক। শ্রীরামকৃষ্ণের নয় ভক্ত। শেষ হল ধ্যান। শুরু হল ঈশ্বর নিয়ে আলোচনা। সেখানে মূল কথক অবশ্য একজনই। বাকিরা শ্রোতা। যিশু খ্রিস্টের জীবনকথা শোনালেন তিনি। অনেকের ত্যাগের মধ্য দিয়ে কী ভাবে খ্রিস্ট ধর্ম ও খ্রিস্ট সম্প্রদায় ব্যাপক ভাবে প্রসারিত হয়েছে তা শোনালেন। তিনি বোঝালেন, জগৎ কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করতে হলে ত্যাগই বড় কথা। আর এর প্রথম ধাপ হল সংসারত্যাগ। ন’জন গুরুভ্রাতা উঠে দাঁড়ালেন, ধুনির অগ্নিশিখাকে সাক্ষী করে সংকল্প করলেন মানুষের স্বার্থে সংসার ত্যাগ করবেন। সন্ন্যাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন নরেন্দ্র (বিবেকানন্দ), বাবুরাম (প্রেমানন্দ), শরৎ (সারদানন্দ), শশী (রামকৃষ্ণানন্দ), তারক (শিবানন্দ), কালী (অভেদানন্দ), নিরঞ্জন (নিরঞ্জনানন্দ), গঙ্গাধর (অখণ্ডানন্দ) এবং সারদা (ত্রিগুণাতীতানন্দ)। বাবুরামদের বাড়িই সেই পুণ্যতীর্থ। আজ সেখানে হয়েছে ধুনিমণ্ডপ। মণ্ডপের গায়ে বিবেকানন্দ-সহ নয় সন্ন্যাসীর খোদাই করা মূর্তি। এর চার দিকে পোড়ামাটির কাজে শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনী ও তাঁর কথা বিধৃত। এই আঁটপুরে রয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির। পুকুরপাড়ে আছেন পাঁচ শিব – গঙ্গাধর, বানেশ্বর, ফুলেশ্বর, রামেশ্বর এবং জলেশ্বর। আর রয়েছে প্রায় ২৩০ বছরের পুরনো বিখ্যাত রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দির। ১০০ ফুট উঁচু এই মন্দিরের পোড়ামাটির কাজ আজও প্রায় অটুট। কাঁঠাল কাঠে তৈরি ৩৩১ বছরের পুরনো আটচালা চণ্ডীমণ্ডপটিও দেখার মতো। রাজবলহাট ৬ কিমি দূরে রাজবলহাট। আঁটপুর থেকে বাসে বা রিকশায় আসা যায়। চতুর্ভুজা মৃন্ময়ী দেবী রাজবল্লভীর মাহাত্ম্য নিয়ে নানা কিংবদন্তি সেখানে। অপরূপা এই দেবীর বাঁ হাতে রুধির পাত্র, ডান হাতে ছুরি। দেবী দাঁড়িয়ে, এক পা ভৈরবীর বুকে, অন্য পা বিরূপাক্ষ মহাদেবের মাথায় আসীন। মন্দিরটিও সুন্দর। হাওড়া থেকে ট্রেনে হরিপাল। সেখান থেকে বাসে আঁটপুর। কলকাতা থেকে বাসেও আসা যায় আঁটপুরে। সুত্রঃ পোর্টাল কনটেন্ট টীম ছবি সৌজন্যে - উইকিপেডিয়া