যে ইস্কন মন্দিরের দৌলতে মায়াপুরের আজ জগৎজোড়া নাম সেই মন্দির দিয়ে শুরু করো গৌরতীর্থ মায়াপুর দর্শন। প্রথমে চন্দ্রোদয় মন্দির। মনোহর বাগিচা পেরিয়ে মন্দির। সেখানে শ্রীকৃষ্ণের জীবন আখ্যান প্রদর্শিত। ইস্কন মন্দিরের মূল ফটকের ডাইনে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীপ্রভুপাদের বর্ণাঢ্য স্মৃতিমন্দির। ইস্কন মন্দির থেকে বেরিয়ে শ্রীচৈতন্য গৌড়ীয় মঠ। এর পর অদ্বৈত ভবন, ২৯ চুড়োর শ্রীচৈতন্য মঠ এবং শ্রীবাস অঙ্গন তথা খোল ভাঙার ডাঙা। রয়েছে ভক্তি সারঙ্গ গোস্বামী মহারাজ মঠ, জন্মভিটে তথা শ্রীমন্দির। ২৯ চুড়োর মঠের উল্টো দিকে পুণ্যিপুকুর শ্যামকুণ্ড, একই চত্বরে রাধাকুণ্ড ইত্যাদি। খোল ভাঙার ডাঙা, এ রকম নাম কেন? শ্রীচৈতন্যের ঘোর বিরোধী ছিলেন এ অঞ্চলের প্রশাসক চাঁদ কাজী তথা মৌলানা সিরাজুদ্দিন। ফতোয়া জারি করে শ্রীচৈতন্যের নামকীর্তন বন্ধ করে দেন তিনি। সেই নিয়ম অমান্য করেই শ্রীচৈতন্য সাঙ্গোপাঙ্গকে নিয়ে নামকীর্তন বার করেছিলেন। যে ডাঙাতে শ্রীচৈতন্যের খোল ভেঙেছিলেন চাঁদ কাজী সেটাই হল খোল ভাঙার ডাঙা। সেখানেই আজ শ্রীবাস অঙ্গন। দমেননি শ্রীচৈতন্য। সেই রাতেই মশাল নিয়ে সংকীর্তন শোভাযাত্রা করে চাঁদ কাজীর বাড়িতে গেলেন। তর্কযুদ্ধে বসলেন। শেষে নিমাইয়ের কাছে যুদ্ধে হাড় মেনে ভক্ত হলেন চাঁদ। এই চাঁদ কাজীর সমাধিও মায়াপুরের অন্যতম দ্রষ্টব্য। মূল মায়াপুর থেকে ৩ কিমি দূরে বামনপুকুর। সেখানেই চাঁদের সমাধিপীঠ এবং ৫০০ বছরের পুরনো গোলকচাঁপা গাছ। সব মিলিয়ে মায়াপুর বাঙালি, অবাঙালি, পশ্চিমবঙ্গ বাসী, ভিন রাজ্যের মানুষ থেকে বিদেশি সকলের কাছেই এই আকর্ষণীয় পর্যটন স্থল। কলকাতা থেকে বাসে ৪ ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায় মায়াপুর। অথবা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে কৃষ্ণনগর, সেখান থেকে বাসে মায়াপুর। কৃষ্ণনগর থেকে ন্যারোগেজ লাইনে নবদ্বীপধাম স্টেশনে পৌঁছে নৌকায় জলঙ্গি পেরিয়ে আসা যায় মায়াপুর। পেরিয়ে অনেক সময়ে ট্রেনে নবদ্বীপ গিয়ে সেখান থেকে নৌকা করে ভাগীরথী পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় মায়াপুরে। ইস্কনের বাসও কলকাতা থেকে মায়াপুর নিয়ে জেয় নিয়মিত। ইস্কনের অতিথিশালাতেই রাত কাটানো যায়। সূত্র: পোর্টাল কনটেন্ট টিম