দার্জিলিং জেলার পাহাড়ে অবস্থিত একটি অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য শোভিত স্থান মিরিক। মিরিক শব্দটি এসেছে লেপচা শব্দ ‘মির-ইয়ক’ থেকে। এর অর্থ ‘আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থান’। মনোরম আবহাওয়া, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুগম হওয়ার কারণে মিরিক একটি পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানকার মূল আকর্ষণ সুমেন্দু হ্রদ। হ্রদের একদিকে বাগান, অন্য দিকে পাইন গাছের সারি। দুটি পারকে যুক্ত করেছে রামধনু সেতু। একটি সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ হ্রদটিকে ঘিরে রেখেছে। এখানে হাঁটতে হাঁটতে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বোটে করে হ্রদে জলবিহারও করা যায়। ঘোড়ায় চড়েও ঘুরে বেড়ানো যায়। শিলিগুড়ি থেকে ৫২ কিমি বা দার্জিলিং থেকে ৪৯ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় ৪৯০৫ ফুট উচ্চতার মিরিকে। প্রতিবেশী থুরবো টি এস্টেট থেকে ৩৩৫ একর জমি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৭৪-এ মিরিককে একটি পর্যটকস্থল হিসাবে গড়ে তোলা শুরু করে। ১৯৭৯-তে মিরিক পুরোদস্তুর পর্যটককেন্দ্র হয়ে ওঠে। মিরিকের মূল আকর্ষণ সুমেন্দু হ্রদ। কী শীত, কী গ্রীষ্ম, রোদে গা দিয়ে হ্রদের ধারে সারাটা দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। এখানকার উচ্চতম স্থান বোকার মোনাসটেরি (৫৮০১ ফুট)। হ্রদের পশ্চিম পাড়ে আছে সিংহ দেবী মন্দির। একটা বেলা কাটিয়ে দেওয়া যায় ৩০ কিমি দূরে বালাসন নদীর ধারে দুধিয়ায়। দার্জিলিং থেকে মিরিক যাওয়ার আরও এক আকর্ষণ নেপালের পশুপতি মার্কেট দেখা। দার্জিলিং-মিরিক পথটি কিছুটা নেপাল সীমান্ত ছুঁয়ে গেছে। সেই সুযোগে প্রায় সব পর্যটক নেপালের ভিতর ঢুকে ৩-৪ কিমি গিয়ে দেখে আসেন সস্তার বাজার পশুপতি মার্কেট। মিরিক শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২৬.৯° উত্তর ৮৮.১৭° পূর্ব ।সমূদ্র সমতল থেকে মিরিকের গড় উচ্চতা ১৪৯৫ মিটার (৪৯০৫ ফুট)। এখানকার উচ্চতম স্থান বোকার গোম্ফার উচ্চতা প্রায় ১৭৬৮ মিটার (৫৮০১ ফুট) । নিম্নতম স্থান মিরিক লেক ১৪৯৪ মিটার (৪৯০২ ফুট) উচ্চতায় অবস্হিত । মিরিকের দূরত্ব শিলিগুড়ি থেকে উত্তর-পশ্চিমে ৫২ কিমি (৩২ মাইল) এবং দার্জিলিং থেকে ৪৯ কিমি (৩০ মাইল) দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে । জলবায়ু: এখানকার জলবায়ু সারাবছরই মনোরম থাকে । গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০° সেলসিয়াস এবং শীতে সর্বোনিম্ন ১° সেলসিয়াস । সুত্রঃ উইকিপিডিয়া ও ভ্রমণ সঙ্গীছবি সৌজন্যে - nomadicweekends.com