সমরেশ বসু (১৯২৪-১৯৮৮) প্রখ্যাত লেখক, ঔপন্যাসিক। কালকূট ও ভ্রমর তাঁর ছদ্মনাম। তাঁর রচনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং যৌনতাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সুনিপুণ বর্ণনা ফুটে ওঠে। ১৯৮০ সালে তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর শৈশব কাটে বাংলাদেশের বিক্রমপুরে আর কৈশোর কাটে কলকাতার উপকণ্ঠে নৈহাটিতে। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতায় তাঁর জীবন ছিল পরিপূর্ণ। এক সময় মাথায় ফেরি করে ডিম বেচতেন। বিচিত্র বিষয় এবং আঙ্গিকে নিত্য ও আমৃত্যু ক্রিয়াশীল লেখকের নাম সমরেশ বসু। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইছাপুরের গান ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। ট্রেড ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির এক জন সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। এ কারণে তাঁকে ১৯৪৯-৫০ সালে জেলও খাটতে হয়। তিনি তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘উত্তরঙ্গ’ রচনা করেন জেলখানায়। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ‘কালকূট ’ছদ্মনামে লেখা শাম্ব উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৮০ সালের সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। কালকূট মানে তীব্র বিষ। এটি তাঁর ছদ্মনাম। 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে', 'কোথায় পাব তারে' সহ অনেক উপন্যাস তিনি এ নামে লিখেছেন। তাঁর লেখা ছোট গল্পের সংখ্যা ২০০ এবং উপন্যাসের সংখ্যা ১০০। তাঁর কয়েকটি উপন্যাস উত্তরঙ্গ গঙ্গা বিবর প্রজাপতি দেখি নাই ফিরে সওদাগর কোথায় পাবো তারে নয়নপুরের মাটি বাঘিনী চলো মন রূপনগরে পাতক মুক্তবেণীর উজানে মহাকালের রথের ঘোড়া শাম্ব বিটি রোডের ধারে শ্রীমতি কাফে অবশেষে কামনা বাসনা কে নেবে মোরে গোগোল চিক্কুস নাগাল্যান্ড ছায়া ঢাকা মন জঙ্গল মহলের গোগোল নিঠুর দরদী পথিক প্রাণ প্রতিমা বাঘিনী মহাকালের রথের ঘোড়া রক্তিম বসন্ত সমরেশ বসু ১৯৮৮ সালের ১২ মার্চ মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর লেখার টেবিলে ছিল ১০ বছরের অমানুষিক শ্রমের অসমাপ্ত ফসল শিল্পী রামকিংকর বেইজের জীবনী অবলম্বনে উপন্যাস ‘দেখি নাই ফিরে ’। সূত্র: উইকিপিডিয়া