কোপারনিকাস, গ্যালিলিও-এর সৌরকেন্দ্রিক মডেলের ধারণার পর গ্রহসমূহের গতি নিয়ে আমাদের সামনে আসেন জোহানেস কেপলার (১৫৭১-১৬৩০ খ্রি)। কেপলার ছিলেন জার্মান গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি সপ্তদশ শতকের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। বিখ্যাত হয়ে আছেন কেপলারের গ্রহ সংক্রান্ত গতিসূত্রের কারণে। পরবর্তীকালের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাঁর লেখা ‘আস্ট্রোনোমিয়া নোভা’, ‘হারমনিসে মুন্ডি’ এবং ‘এপিটোমে আস্ট্রোনোমিয়ায়ে কোপারনিসানায়ে’ বইগুলির মধ্যে লেখা নীতিগুলিকেই তাঁর সূত্র হিসাবে নামকরণ করেছেন। কেপলারের পরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার কক্ষপথ অনুসরণ করে। কেপলারের গ্রহ সংক্রান্ত সূত্রগুলো আইজাক নিউটনের বিশ্বজনীন মহাকর্ষতত্ত্বের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে টাইকো ব্রাহে (১৫৪৬-১৬০১খ্রি) প্রায় প্রতি দিন গ্রহের অবস্থান পরিমাপ করতেন।পরবর্তীতে এ সব তথ্য থেকে তাঁর সহকারী এবং উত্তরাধিকারী জোহানেস কেপলার গ্রহ সংক্রান্ত গতিসূত্র আবিষ্কার করেন। সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত সূর্যের চার দিকে গ্রহদের চলাচলের তিনটি নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন জোহান কেপলার। সূত্রগুলো হল -- প্রথম সূত্র -- প্রতিটি গ্রহ সূর্যের চারিদিকে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিক্রম করে। উপবৃত্তটির একটি ফোকাস বিন্দুতে সূর্যের অবস্থান। দ্বিতীয় সূত্র -- সূর্য থেকে কোনও গ্রহ পর্যন্ত একটি সরল রেখা কল্পনা করা হয়, তা হলে গ্রহটি চলাকালে কল্পিত রেখাটি সমান সময়ে সমান ক্ষেত্র রচনা করবে। তৃতীয় সূত্র -- প্রতিটি গ্রহের প্রদক্ষিণের কালপর্বের বর্গ উপবৃত্তটির প্রধান অক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। কেপলার যখন জীবিত ছিলেন তখন জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের মধ্যে কোনও পার্থক্য ছিল না। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানের সঙ্গে সুস্পষ্ট পার্থক্য ছিল পদার্থবিজ্ঞানের। সে সময় পদার্থবিজ্ঞান ছিল প্রাকৃতিক দর্শনের একটি শাখা আর জ্যোতির্বিদ্যা ছিল লিবারেল আর্টসের অন্তর্ভুক্ত গণিতের একটি উপশাখা। কেপলার সেই সময় জ্যোতির্বিদ্যার একটা নতুন শাখা খোলেন এবং তার নাম দিয়েছিলেন স্বর্গীয় পদার্থবিদ্যা (সেলেসচিয়াল ফিজিক্স)। এক কথায় জ্যোতির্বিদ্যাকে সর্বজনীন গাণিতিক পদার্থবিদ্যার একটি শাখা হিসেবে বিবেচনা করে তিনি ভৌত বিশ্বতত্ত্বের সুপ্রাচীন প্রথাকে একটি নতুন আঙ্গিক দিয়েছিলেন। সূত্র : বিশ্বের সেরা ১০১ বিজ্ঞানীর জীবনী, আ. ন. ম. মিজানুর রহমান পাটওয়ারি, মিজান পাবলিশার্স, ঢাকা