এ বার কয়েকটি সাধারণ ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কে কিছু বলা যাক। ‘বিগ ব্যাং’ — যার বাংলা করলে মহাবিস্ফোরণ কথাটি পাওয়া যায়, তা কিন্তু আসলে আক্ষরিক অর্থে কোনও বিস্ফোরণ নয়। এমন নয় যে মহাবিশ্বের সমস্ত পদার্থ একটি বিন্দুতে ঘনীভূত ছিল আর দেশকালে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে কোনও একটা সময়ে — প্রবল বিস্ফোরণে তা চতুর্দিকে ছিটকে পড়েছিল। প্রকৃতপক্ষে দেশকালের উৎপত্তি ও ‘বিগ ব্যাং’ থেকেই। তার আগে কে ছিল, কিংবা কেন এই ‘বিগ ব্যাং’ ঘটল, তা জানা নেই। আগেই বলা হয়েছে যেটা বলা যায় তা হলো আমাদের বিশ্বের বিবর্তনের ইতিহাস, সৃষ্টির গল্প নয়। এটা যদি সত্যিই কোনও বিস্ফোরণ না হয়ে থাকে, তা হলে কেন এই নামকরণ ? নামকরণের দায়ভার জ্যোতির্বিদ ফ্রেড হয়েলের। ফ্রেড হয়েল ছিলেন প্রসারণশীল বিশ্বের ধারণার বিরোধী। তিনি ও আরো কয়েক জন বিজ্ঞানী বিশ্বাস করতেন স্থির মহাবিশ্বের চিত্রে। ১৯৫০ সাল নাগাদ বি বি সি-এর একটি অনুষ্ঠানে হয়েল ব্যাঙ্গার্থে এই ‘বিগ ব্যাং’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছিলেন প্রসারণশীল মহাবিশ্বের নীতিকে বোঝাতে। কিন্তু এই নামটিই পরবর্তীকালে থেকে যায়। দেশকালের কোনও অস্তিত্বই ছিল না ‘বিগ ব্যাং’-এর আগে, অথবা থাকলেও তার প্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা করা সম্ভব নয়। যে হেতু আলোর একটি নির্দিষ্ট গতিবেগ আছে এবং আমাদের বিশ্বের একটি সসীম বয়স রয়েছে (১৩.৭ x ১০৯ বছর), তাই আমরা মহাশূন্যে কেবলমাত্র একটি দূরত্ব অবধি-ই দেখতে পাই, যেটা হলো ১৩.৭ x ১০৯ আলোকবর্ষ। এটাই আমাদের দিগন্ত বা “horizon”, যার আগের কোনও আলো আমাদের কাছে এসে পৌঁছবে না। ‘বিগ ব্যাং’ মডেলটি এই দিগন্তের ও পারের দেশকাল সম্পর্কে কোনও ধারণা দিতে পারে না, কারণ তার সম্পর্কে কোনও ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। সূত্র : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংসদ ও দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার