এই পৃথিবীকে যদি সমগ্র ব্রহ্মান্ডের সাথে তুলনা করা হয় তবে আমাদের পৃথিবী ঠিক কতটা ছোট হতে পারে তা কোন সংখ্যা দিয়েই বোঝানো যাবেনা। মহাকাশের শেষপ্রান্তে কি আছে? এই প্রশ্নেরও কোন উত্তর নেই। কারন এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের শেষ কোথায় তাই আমরা জানিনা। কারন সূর্যের আলো যতদূর পৌছয় ততটাই আমরা দেখতে পাড়ি। এরপর কি আছে তা আমরা জানিনা। ব্রহ্মাণ্ডে আমাদের সব থেকে কাছের প্রতিবেশী হলো চাঁদ। কিন্তু বাস্তবে চাঁদ আমাদের পৃথিবীর এতটা কাছে অবস্থিত নয়। আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় তিন লক্ষ চুরাশি হাজার চারশো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আমাদের প্রতিবেশী চাঁদ। একবার ভাবুন বাস্তবে এই চাঁদ কতটা বড়। চাঁদে যেতে কত সময় লাগবে? ধরুন আপনি আজ সিদ্ধান্ত নিলেন একটা গাড়ী চালিয়েই চলে যাবেন চাঁদে। এবার আপনার গাড়ি যদি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে চালাতে পারেন তবে ওই দূরত্বে পৌঁছাতে আপনার ১৬০ দিন সময় লাগবে। অর্থাৎ প্রায় ছয় মাস! দূরত্ব সত্ত্বেও মানুষ কিন্তু চাঁদে পা রেখেছেন। মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ থেকে আমাদের পৃথিবী ২৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কি আছে মহাকাশে? এখানে ১০০ বিলিয়নেরও বেশি নক্ষত্র এবং ১০০ বিলিয়নেরও বেশি গ্রহ রয়েছে । কিন্তু কখনোই রাতের আকাশে গ্যালাক্সি টি সম্পূর্ণ দেখতে পাওয়া যাবে না। আমাদের এই দৃশ্যমান ব্রহ্মাণ্ডের বাইরে রয়েছে আরও একটা বিশাল ব্রহ্মাণ্ড। সেই ব্রহ্মান্ড আরো বিশাল। কেউ কেউ বলেন সেই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড আরোও সুন্দর যা আমাদের কল্পনা অতীত। কারন সেখানে আলো পৌছয় না আর পউছুলেও আমাদের এই পৃথিবীতে এসে পৌছয় না। রয়েছে প্রচুর স্পেস স্যাটেলের বর্জ্য। গ্রহাণু, উল্কা পিণ্ডের মৃতদেহ। মহাবিশ্বের শেষপ্রান্তে কি আছে? আমরা যদি কখনও মহাবিশ্বের শেষ প্রান্তে পৌছাতে পারি তাহলে কি হবে? একটা পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে যদি দেখতে চাই নীচে কি আছে তাহলে আমরা কি কিছু দেখতে পাবো? ঠিক এমনই বিষয়টা। এই পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আমরা কি খুঁজে পাবো মহাবিশ্ব ঠিক কতটা বিস্তৃত? কোনদিনই আমরা মহাবিশ্বের শেষ প্রান্তে পৌছাতে পারব না। কারন হলো আমরা যদি মহাবিশ্বের বাইরের দিকে একটা সরলরেখা ধরে ক্রমাগত, বিরামহীণ ভাবে অনন্তকাল ধরে যেতেই থাকি তারপরও আমাদের পক্ষে কখনই মহাবিশ্বের শেষ সীমানায় পৌছানো সম্ভব হবে না। আমরা যে জায়গা থেকে শুরু করেছিলাম সেখানেই আবার ফিরে আসার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশী। তাছাড়া আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সুত্রের সাথে সামন্জস্য রেখে স্পেসটা অদ্ভুত ভাবে বাঁকানো বা মোচড়ানো। যেটা আমাদের পক্ষে সঠিকভাবে কল্পনা করা সম্ভব নয়। সহজ করে বলা যায় মহাবিশ্বটা বিশাল এবং নিরন্তর প্রসারিত হচ্ছে। স্পেস কি প্রসারিত হচ্ছে? স্পেস প্রসারিত হচ্ছে এই ভাবনাটাই আসলে ভুল। বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ‘স্টিভেন ওয়াইনবার্গ’ বলেছেন, ” সৌর জগৎ বা তারকালোক (গ্যালাক্সি) গুলো প্রসারিত হচ্ছে না এবং স্পেস নিজেও প্রসারিত হচ্ছে না বরং তারকালোকগুলো একে অপরের থেকে দুরে সরে যাচ্ছে।” যেমন চাঁদ। মহাবিশ্বটা একই সাথে বাউন্ডলেস কিন্তু ফাইনাইট। মহাবিশ্বটা আসলে খুব বেশি অস্বাভাবিক বা যতখানি আমাদের ভাবার ক্ষমতা আছে তার থেকেও অনেক বেশি অস্বাভাবিক। মহাবিশ্বের যেরকম কোনো শেষ নেই যেখানে আমরা দাড়িয়ে বলতে পারব এইটা হচ্ছে এর শেষ সীমা। কোনো কেন্দ্রও নাই যেখানে দাড়িয়ে আমরা বলতে পারব এইটাই সেই যায়গা যেখান থাকে সব কিছুর শুরু হয়েছিলো বা এটাই মহাবিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের জন্য মহাবিশ্বটা ততদূর লম্বা যতদূর পর্যন্ত আলো মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত পৌছাতে পেরেছে। এই দৃশ্যমান বিশ্ব, যেটা সম্পর্কে আমরা জানি বা যেটা নিয়ে কথা বলতে পারি, মিলিয়ন, মিলিয়ন, মিলিয়ন, মিলিয়ন মাইল ব্যাপি বিস্তৃত। এর পরে আরও যা আছে সেটার হিসাব হয়ত সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা যাবে না। সত্য বলতে মহাকাশের কোনো সীমা নেই। বিজ্ঞানীদের মতে বিগ ব্যাং অর্থাৎ অত্যন্ত ঘন বস্তু থেকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এখনও অনেক রহস্য আমাদের অজানা। মহাকাশে প্রতিদিন কি চলছে তার খোঁজ পৃথিবীর বাসিন্দাদের রাখার কোন অবকাশ নেই। আমরা ততটাই দেখি যতটা এলাকায় সূর্যের আলোক পৌছয়। আমাদের বিজ্ঞান এখনও অন্ধকার জগতের রহস্য জানেনা। তাই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের শেষ প্রান্ত বলে কিছু এখনও আমাদের অধরা। ব্রহ্মাণ্ডের শেষ প্রান্তে হয়তো একদিন পৌঁছুবে মানুষ। কিন্তু আরও হয়তো হাজার লক্ষ বছর পরে। প্রায় সময়েই আমরা খবর পাই যে পৃথিবী ধংশ হয়ে যাবে। ধেয়ে আসছে একটা দৈত্যকার গ্রহ অথবা অন্যকিছু। আসলে মহাকাশও এই মুহূর্তে ফুটছে। অজস্র গ্রহ নক্ষত্রের ধংশাবশেষ, কৃত্রিম উপগ্রহের অবশিষ্ট গুলিই ঘুরে বেড়াচ্ছে মহাকাশে। এগুলিই চ্যালেঞ্জ পৃথিবীর জন্যে। লেখকঃ রাজীব দত্ত (প্রাবন্ধিক)। তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া এবং সমসাময়িক সংবাদপত্র।